পিডিনিউজ ডেক্সঃ
৭ মার্চ বিকেলে সিলেট শহরতলীর পীরেরবাজার শাহ সুন্দর মাজার এলাকার একটি বাসায় অভিযান পরিচালনা করে তিন নারীসহ চারজনকে আটক করেছে সেনাবাহিনী। এসময় বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ৪ জন হচ্ছে সাংবাদিক ও তার ৩ বোন। এ ঘটনাটি সাংবাদিক রাজন পরিবারকে সুপরিকল্পিত সড়যন্ত্র বলে ধারনা করা হচ্ছে।।।
গ্রেফতারের পরপরই সাংবাদিক রাজন সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে গিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করে তার বক্তব্য জানান। সেনাবাহিনী ক্যাম্পের দায়িত্বরত কর্মকর্তা রাজনের বক্তব্য শোনার পর বিষয়টি শাহপরান রহঃ থানার অফিসার ইনচার্জ মনির হোসেন কে দ্রুত তদন্ত করতে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে আটককৃতদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং সাংবাদিক পরিবার যেকোন কারনে কোন দৃস্কৃতিকারী চক্রের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে উদ্ভুত পরিস্থিতি সৃষ্ঠি হয়েছে বলে ধারনা করেন। মুলতঃ সাংবাদিক রাজন ও তার পরিবারের সদস্যদের ফাঁসিয়ে সামাজিকভাবে সম্মান ক্ষূন্ন করতে কোন কূচক্রিমহল সুকৌশলে সাংবাদিক রাজনের ঘরে মাদক রেখে যেতে পারে বলে ধারনা করছেন বিভিন্ন মহল।
ওসি মনির হোসেন আরো বলেন, এলাকাবাসীও তাদের ব্যাপারে কোন অপরাধমুলক কাজের তথ্য দিতে পারেনি। তাই তাদের সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলাপ করে শনিবার (৮ মার্চ) ভোররাতে তাদের স্ব-সম্মানে ছেড়ে দেওয়া হয়ছে বলে নিশ্চিত শাহ পরান (রঃ) থানা কতৃপক্ষ।
(৮ মার্চ) রাত ৯ ঘটিকায় সাংবাদিক রাজন নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলন করেন এবং তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান যে, তিনি একটি কুচক্রী মহলের চক্রান্তের শিকার। তার বাসার পেছনে গাছে চড়ে কিংবা বাউন্ডারি টপকিয়ে তাদের বাসার ছাদে উঠতে পারে যেকেউ। ঘটনার দিন তিনি মসজিদে নামাজরত অবস্থায় ছিলেন বলে জানান। বাসায় তার অনুপস্থিতির সুযোগে সাদা পোশাকে ৪ জন লোক এসে তার বাসায় প্রবেশ করে, এসময় তার বোনেরা ঘরের রুমের দরজা বন্ধ করে ডাকাত মনে করে চিৎকার করলে তাৎক্ষনিক আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে যায়, এবং সাদা পোশাকধারী চারজনের সাথে ধস্তাধস্তি হয় প্রতিবেশীদের, চিৎকার শোনে নামাজ শেষে রাজন বাসায় আসলে সেই সন্দেহভাজন সাদা পোশাকধারী লোকদের কয়েকজন জোর জবরদস্তি করে মসজিদ ফেরত সাংবাদিক রাজনের পাঞ্জাবীর পকেটেও ফেন্সিডিলের বোতল ঢুকানোর চেষ্টা করলে রাজন তার শরীরের সর্বশক্তি দিয়ে তাদের সাথে ধস্তাধস্তি করেন। এরিইমধ্যে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ টিম ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় এবং রাজনের তিন বোন সহ প্রতিবেশী লিমন নামের এক যুবককে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় সেনা ক্যাম্পে।
ঐদিন মাগরিরের পূর্বে সাংবাদিক রাজন বুকে কোরআন শরীফ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি লাইভ বার্তায় নিজেকে নির্দোষ ও চক্রান্তের শিকার বলে দাবী করে সেনা ক্যাম্পে আত্মসমর্পণ করেন,
এবং সেনাবাহিনীর উর্ধতন কর্মকর্তারা তার জবানবন্দী শোনে থানা কর্তৃপক্ষের নিকট আটক ৪ জন সহ রাজনকে হস্তান্তর করেন।
রাজন আরো বলেন ঐদিন ঘটনার সাথে সাথে কথিত সাংবাদিকেরা লাইভ করে, এবং বিভিন্ন নিউজ পোর্টালে তার বোনদের ছবি সহ মানহানিকর ভাষায় শিরোনাম দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার করে। এমন জঘন্যতম চক্রান্তমূলক ঘটনার সাথে ঐসব সাংবাদিকেরা জড়িত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করছেন রাজন।
এব্যাপারে তিনি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও জানান, একইসাথে সাংবাদিক রাজন ষড়যন্ত্রমুলক নিন্দনীয় এ ঘটনার আসল রহস্য উদ্ঘাটন ও ন্যায় বিচারের লক্ষ্যে পুলিশ প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ ও সিলেটের সচেতন মহলের সহযোগিতা আশা করেছেন।